টাকা-পয়সা

ক্রেডিট স্কোর কীভাবে বাড়াবেন: কার্যকর ৮টি ধাপ

ক্রেডিট স্কোর কীভাবে বাড়াবেন? সময়মতো বিল দিন, কার্ডের ব্যালান্স কম রাখুন, ক্রেডিট রিপোর্টের ভুল যাচাই করুন আর নতুন আবেদন সীমিত রাখুন। ধাপে ধাপে গাইড।

7 মিনিটে পড়ুনহালনাগাদ HowWise

এই গাইড শুধু সাধারণ তথ্যের জন্য, পেশাদার আর্থিক, আইনি বা প্রযুক্তিগত পরামর্শ নয়। ডিভাইস ও দেশভেদে মেনু ও নিয়ম আলাদা হতে পারে।

ক্রেডিট স্কোর বাড়াতে প্রতিটি বিল সময়মতো দিন, ক্রেডিট কার্ডের ব্যালান্স লিমিটের তুলনায় কম রাখুন এবং ক্রেডিট রিপোর্টে কোনো ভুল আছে কি না যাচাই করুন। একসঙ্গে অনেক নতুন ঋণের আবেদন করবেন না, আর ভালো অভ্যাসগুলোকে গড়ে ওঠার সময় দিন, কারণ স্কোর মূলত মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আপনি কীভাবে ঋণ সামলান তা-ই প্রতিফলিত করে।

ক্রেডিট স্কোরিং পদ্ধতি দেশভেদে আলাদা, এমনকি একই দেশের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যেও আলাদা হতে পারে। নিচের সাধারণ বিষয়গুলো প্রায় সব জায়গায় প্রযোজ্য, তবে আপনার দেশে স্কোরিং কীভাবে কাজ করে তা অবশ্যই দেখে নিন।

সংক্ষেপে উত্তর

  • প্রতিবার সব বিল সময়মতো দিন। অটোমেটিক পেমেন্ট চালু করুন।
  • ক্রেডিটের ব্যবহার কম রাখুন, আদর্শভাবে মোট লিমিটের ৩০%-এর বেশি নয়।
  • ক্রেডিট রিপোর্ট দেখুন এবং কোনো ভুল থাকলে আপত্তি জানান।
  • শুধু যে ঋণ সত্যিই দরকার, সেটার জন্যই আবেদন করুন।
  • দীর্ঘ ইতিহাস গড়তে পুরোনো অ্যাকাউন্টগুলো ভালো অবস্থায় রাখুন।
  • যে কাজ নিজে বিনামূল্যে করতে পারেন, তার জন্য টাকা নেয় এমন "ক্রেডিট রিপেয়ার" কোম্পানি এড়িয়ে চলুন।

এটি সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত আর্থিক পরামর্শ নয়।

ক্রেডিট স্কোর কী

ক্রেডিট স্কোর হলো একটা সংখ্যা, যা আন্দাজ করে আপনি ধার করা টাকা কতটা সময়মতো ফেরত দেবেন। ঋণদাতা, বাড়িওয়ালা ও কিছু বিমা কোম্পানি এটা দেখে ঠিক করে আপনাকে অনুমোদন দেবে কি না এবং কোন হার বা শর্তে দেবে।

আপনার স্কোর হিসাব হয় ক্রেডিট রিপোর্ট থেকে, অর্থাৎ ক্রেডিট ব্যুরোর (যাদের ক্রেডিট রেফারেন্স এজেন্সিও বলা হয়) কাছে থাকা আপনার ঋণ, কার্ড আর পেমেন্টের ইতিহাসের রেকর্ড থেকে।

আপনার স্কোর শুধু একটা নয়। একই ইতিহাস থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও স্কোরিং মডেল ভিন্ন ভিন্ন সংখ্যা দিতে পারে। স্কেলও আলাদা। যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ স্কোর ৩০০ থেকে ৮৫০-এর মধ্যে থাকে, আবার অন্য দেশের সংস্থাগুলো নিজস্ব পরিসর ব্যবহার করে। আপনার স্কোর যে স্কেলে দেওয়া হয়েছে, শুধু সেই স্কেলের সঙ্গেই তুলনা করুন।

যেসব সাধারণ বিষয় আপনার স্কোরকে প্রভাবিত করে

সঠিক গুরুত্ব সব জায়গায় এক নয়, তবে বেশিরভাগ স্কোরিং পদ্ধতি একই রকম বিষয়গুলো দেখে:

বিষয় এর মানে কী কীভাবে উন্নত করবেন
পেমেন্টের ইতিহাস আপনি সময়মতো টাকা দেন কি না কখনো নির্ধারিত তারিখ মিস করবেন না; পেমেন্ট অটোমেটিক করুন
ক্রেডিট ব্যবহারের হার উপলব্ধ ক্রেডিটের কতটা আপনি ব্যবহার করছেন ব্যালান্স কম রাখুন, আদর্শভাবে লিমিটের ৩০% বা তার কম
ইতিহাসের দৈর্ঘ্য আপনার অ্যাকাউন্টগুলো কতদিন ধরে খোলা সময়ের সঙ্গে অ্যাকাউন্টগুলো ভালো অবস্থায় রাখুন
নতুন আবেদন সম্প্রতি কতবার আবেদন করেছেন আবেদনের মধ্যে বিরতি দিন; দরকার হলেই কেবল আবেদন করুন
ক্রেডিটের ধরন কার্ড, ঋণ ও অন্যান্য অ্যাকাউন্টের মিশ্রণ শুধু "মিশ্রণের" জন্য অ্যাকাউন্ট খুলবেন না
গুরুতর নেতিবাচক তথ্য খেলাপি, কালেকশন, দেউলিয়াত্ব এবং সেগুলো কত সাম্প্রতিক বকেয়া শুরুতেই মেটান; সমস্যায় থাকলে পরামর্শ নিন
তথ্যের নির্ভুলতা সঠিক নাম, ঠিকানা ও অ্যাকাউন্টের তথ্য রিপোর্ট যাচাই করে ভুল সংশোধন করুন

সাধারণত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পেমেন্টের ইতিহাস।

ধাপ ১: আপনার ক্রেডিট রিপোর্ট সংগ্রহ করুন

যা দেখতে পাচ্ছেন না, তা উন্নত করতে পারবেন না। শুরুতে আপনার দেশের প্রতিটি প্রধান ব্যুরো থেকে রিপোর্ট সংগ্রহ করুন।

  1. আপনার দেশের সরকারি বিনামূল্যের ক্রেডিট রিপোর্ট সেবাটি খুঁজে বের করুন। অনেক দেশে বিনামূল্যে নিজের রিপোর্ট দেখার আইনি অধিকার আছে।
  2. যুক্তরাষ্ট্রে AnnualCreditReport.com ব্যবহার করুন, এটাই Equifax, Experian ও TransUnion-এর বিনামূল্যের রিপোর্ট দেওয়ার একমাত্র অনুমোদিত সাইট। প্রতি সপ্তাহে বিনামূল্যে রিপোর্ট পাওয়া যায়।
  3. যুক্তরাজ্যে প্রতিটি ক্রেডিট রেফারেন্স এজেন্সির কাছে বিনামূল্যে রিপোর্ট দেখতে পারবেন।
  4. প্রতিটি ব্যুরোর রিপোর্ট দেখুন, কারণ প্রত্যেকের কাছে আলাদা তথ্য থাকতে পারে।

প্রতারণা সতর্কতা: বানান ভুল ওয়েব ঠিকানাওয়ালা নকল সাইট বা কিছু বিক্রির চেষ্টা করে এমন "ফ্রি রিপোর্ট" অফার থেকে সাবধান থাকুন। সরকারি সেবা কখনো ইমেইল, মেসেজ বা ফোন করে আপনার পরিচয়পত্রের নম্বর বা অ্যাকাউন্টের তথ্য চাইবে না।

ধাপ ২: রিপোর্টের ভুল সংশোধন করুন

ভুল ঠিকানার মতো ছোট্ট একটা ভুলও সমস্যা তৈরি করতে পারে।

  1. ব্যক্তিগত তথ্য যাচাই করুন: নাম, জন্মতারিখ, বর্তমান ও আগের ঠিকানা।
  2. এমন কোনো অ্যাকাউন্ট আছে কি না দেখুন যা আপনি চেনেন না। এটা পরিচয় চুরির লক্ষণ হতে পারে।
  3. দেরিতে পেমেন্ট, ব্যালান্স আর বন্ধ অ্যাকাউন্টের তথ্য সঠিকভাবে দেখানো হচ্ছে কি না যাচাই করুন।
  4. ক্রেডিট ব্যুরো এবং যে ঋণদাতা ভুল তথ্য দিয়েছে, দুই জায়গাতেই আপত্তি জানান। সবকিছুর কপি রেখে দিন।
  5. জালিয়াতি চোখে পড়লে আপনার দেশের পরিচয় চুরি বা জালিয়াতি বিষয়ক কর্তৃপক্ষকে জানান।

সঠিক নেতিবাচক তথ্য সাধারণত সময়ের আগে মোছা যায় না। শুধু আসল ভুলগুলোই সংশোধন করা যায়।

ধাপ ৩: প্রতিটি বিল সময়মতো দিন

স্কোরের জন্য এটাই সবচেয়ে শক্তিশালী অভ্যাস।

  1. প্রতিটি কার্ড ও ঋণে অন্তত ন্যূনতম অঙ্কের জন্য অটোমেটিক পেমেন্ট সেট করুন।
  2. প্রতিটি নির্ধারিত তারিখের কয়েক দিন আগে ক্যালেন্ডার বা অ্যাপে রিমাইন্ডার রাখুন।
  3. কোনো পেমেন্ট মিস করে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব বকেয়া মেটান এবং নিয়মিত থাকুন।
  4. সমস্যায় পড়লে পেমেন্ট মিস করার আগেই ঋণদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকল্প জানতে চান।

ধাপ ৪: ক্রেডিট ব্যবহারের হার কমান

ব্যবহারের হার হলো আপনার উপলব্ধ ক্রেডিটের যে অংশ আপনি ব্যবহার করছেন। বিশেষজ্ঞরা সাধারণত এটাকে মোট লিমিটের ৩০%-এর বেশি না রাখার পরামর্শ দেন। সাধারণত যত কম, তত ভালো।

যেমন, আপনার কার্ডগুলোর মোট লিমিট ৫,০০০ হলে মোট ব্যালান্স ১,৫০০-এর নিচে রাখার চেষ্টা করুন।

  1. কার্ডের ব্যালান্স কমান, সবচেয়ে বেশি সুদের কার্ড দিয়ে শুরু করুন।
  2. সম্ভব হলে প্রতি মাসে পুরো বিল শোধ করুন। ভালো স্কোর গড়তে ব্যালান্স রেখে দেওয়া বা সুদ দেওয়ার দরকার নেই।
  3. সব ঋণ একটা কার্ডে সরানোর ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। এতে সেই কার্ড লিমিটের কাছাকাছি চলে যেতে পারে।

ঋণের বোঝা অসহনীয় মনে হলে আমাদের কীভাবে ঋণমুক্ত হবেন গাইডে ঋণ শোধের পদ্ধতিগুলোর তুলনা আছে।

ধাপ ৫: নতুন ঋণের আবেদন সীমিত রাখুন

প্রতিটি আনুষ্ঠানিক আবেদন আপনার ফাইলে রেকর্ড হতে পারে। অল্প সময়ে অনেক আবেদন দেখলে ঋণদাতারা ভাবতে পারে আপনি আর্থিক চাপে আছেন।

  1. শুধু যে ঋণ সত্যিই দরকার, তার জন্যই আবেদন করুন।
  2. যেখানে পাওয়া যায়, "সফট সার্চ" করে এমন যোগ্যতা যাচাইয়ের টুল ব্যবহার করুন, এতে স্কোরে প্রভাব পড়ে না।
  3. সম্ভব হলে আবেদনগুলোর মধ্যে কয়েক মাসের বিরতি দিন।

ধাপ ৬: দীর্ঘ ও স্থিতিশীল ইতিহাস গড়ুন

সময়ের সঙ্গে আপনি অ্যাকাউন্টগুলো কীভাবে সামলান, স্কোর অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করে, তাই সময়মতো পেমেন্টের দীর্ঘ রেকর্ড সাহায্য করে। অ্যাকাউন্টগুলো ভালো অবস্থায় রাখুন, আর পুরোনো, অব্যবহৃত অ্যাকাউন্টগুলোর দিকে নজর রাখুন, যাতে কেউ অপব্যবহার করতে না পারে।

ধাপ ৭: ক্রেডিট ইতিহাস কম বা একেবারে না থাকলে তা গড়ে তুলুন

কখনো পেমেন্ট মিস না করলেও "পাতলা" ফাইলের কারণে অনুমোদন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

  1. নিয়ন্ত্রিত কোনো ঋণদাতার কাছ থেকে সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড বা ছোট একটা ক্রেডিট-বিল্ডার লোনের কথা ভাবুন।
  2. এটা ছোট কেনাকাটায় ব্যবহার করুন এবং প্রতি মাসে পুরো বিল শোধ করুন।
  3. কিছু দেশে বাড়িভাড়া বা ইউটিলিটি বিলের পেমেন্ট রিপোর্টে যোগ করা যায়, অথবা বর্তমান ঠিকানায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা যায় (যুক্তরাজ্য)।
  4. দ্রুত স্কোর "বাড়িয়ে দেওয়ার" প্রতিশ্রুতি দেয় এমন উচ্চ ফি-র প্রোডাক্ট এড়িয়ে চলুন।

ধাপ ৮: ধৈর্য ধরুন এবং নজর রাখুন

ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে সময় লাগে। যেমন, যুক্তরাজ্যে সঠিকভাবে রেকর্ড হওয়া মিস করা পেমেন্ট সাধারণত ছয় বছর ফাইলে থাকে, এবং পুরোনো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রভাব কমে আসে। সময়মতো পেমেন্ট চালিয়ে যান, নিয়মিত রিপোর্ট দেখুন, আর জালিয়াতি থেকে নিজেকে রক্ষা করুন। আমাদের অনলাইন প্রতারণা কীভাবে চিনবেন গাইডে প্রচলিত কৌশলগুলো দেখানো হয়েছে।

যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

  • "ক্রেডিট রিপেয়ার"-এর জন্য টাকা দেওয়া। সঠিক তথ্য সাধারণত আগে মোছা যায় না, আর আসল ভুলের বিরুদ্ধে আপনি নিজেই বিনামূল্যে আপত্তি জানাতে পারেন।
  • কার্ডের পুরো লিমিট ব্যবহার করে ফেলা, পরে শোধ করে দিলেও।
  • কোনটা অনুমোদন পায় দেখতে একসঙ্গে কয়েকটা কার্ড বা ঋণের আবেদন করা।
  • ছোট বিল উপেক্ষা করা, যা কালেকশনে চলে যেতে পারে।
  • দেরিতে টাকা দেন এমন কারও সঙ্গে কো-সাইন বা যৌথ অ্যাকাউন্ট করা। যৌথ অ্যাকাউন্ট আপনাদের দুজনের ফাইল যুক্ত করে দিতে পারে।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ক্রেডিট স্কোর বাড়াতে কত সময় লাগে?

এটা নির্ভর করে আপনি কোথা থেকে শুরু করছেন এবং কী আপনার স্কোর আটকে রেখেছে তার ওপর। কার্ডের ব্যালান্স কমানো আর ভুল সংশোধন করলে ঋণদাতারা হালনাগাদ তথ্য জানানোর পর বেশ দ্রুতই উপকার পাওয়া যেতে পারে। মিস করা পেমেন্ট বা খেলাপি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে বেশি সময় লাগে, প্রায়ই কয়েক বছর, যতদিন না নেতিবাচক তথ্যগুলো পুরোনো হয়।

ভালো ক্রেডিট স্কোর কত?

এটা স্কোরিং পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ স্কোর ৩০০ থেকে ৮৫০-এর মধ্যে থাকে, আর যত বেশি তত ভালো। অন্য দেশ ও সংস্থা ভিন্ন স্কেল ব্যবহার করে, তাই আপনার স্কোরের সঙ্গে দেখানো পরিসরটা দেখে নিন।

নিজের ক্রেডিট স্কোর দেখলে কি তা কমে যায়?

না। নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট দেখা নতুন ঋণের আবেদন নয়, তাই এতে স্কোরে কোনো প্রভাব পড়ে না। ঋণের আনুষ্ঠানিক আবেদনই আপনার ফাইলে দেখা যেতে পারে এবং প্রভাব ফেলতে পারে।

ক্রেডিট গড়তে কি কার্ডে ব্যালান্স রেখে দিতে হয়?

না। ভালো স্কোরের জন্য ব্যালান্স রেখে দেওয়া বা সুদ দেওয়ার দরকার নেই। কার্ড অল্প ব্যবহার করে প্রতি মাসে পুরো বিল শোধ করাই আপনার স্কোর আর পকেট, দুটোর জন্যই ভালো।

ক্রেডিট রিপোর্ট থেকে দেরিতে পেমেন্টের তথ্য মোছা যায় কি?

সঠিক দেরিতে পেমেন্টের তথ্য সাধারণত আগে মোছা যায় না; শুধু আসল ভুলই সংশোধন করা যায়। বিশেষ কোনো কারণ থাকলে কিছু দেশে ফাইলে একটা ছোট ব্যাখ্যামূলক নোট যোগ করার সুযোগ থাকে।


তথ্যসূত্র